প্রিন্ট এর তারিখঃ Nov 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 4, 2026 ইং
নারী ক্রিকেটারকে যৌন হয়রানির প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি

সাবেক নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তদন্ত কমিটি। নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং রূঢ় ও অসদাচরণ। এই দুই আচরণই যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।
তিনি জানান, জাহানারা আলমের অভিযোগের পর বিসিবি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে প্রতিবেদনটি বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানান মাহিন এম রহমান। তবে জাহানারা আলম আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছিলেন, সেগুলোর সত্যতা তদন্ত কমিটি পায়নি। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ মঞ্জুরুল আলমকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বিসিবিসংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে তিনি আর অংশ নিতে পারবেন না।
প্রতিবেদন প্রকাশ না করার বিষয়ে বিসিবির আইনজীবী বলেন, যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্তে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের অনেক ব্যক্তিগত এবং সংবেদনশীল তথ্য উঠে আসে। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে তাদের সম্মান ও গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হতে পারে। এ কারণে তদন্তের উপকরণ ও প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ না করে গোপনীয় হিসেবে সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছে বিসিবি। ২০২৬ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নীতিমালা গ্রহণ ও প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিসিবির ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নারী ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোর্ডে কর্মরত নারী কর্মীরাও যেকোনো সময় অভিযোগ জানাতে পারবেন।
মঞ্জুরুল আলমের আজীবন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা দুটি পৃথক রিট আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন বলেও জানান মাহিন এম রহমান। তিনি বলেন, ওই দুটি মামলায় বিসিবির পক্ষে আইনজীবীরা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নেন। শুনানির সময় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আদালত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে মঞ্জুরুল আলমের করা রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।
এ ছাড়া যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়ে একজন নারী ক্রীড়াবিদের করা আরেকটি রিট হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান বিসিবির এই আইনজীবী। ওই মামলায় বিসিবিও পক্ষভুক্ত। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদনসহ এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলো আদালতকে অবহিত করা হবে।
মাহিন এম রহমান বলেন, মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জাহানারা আলমকে জানানো হয়েছে। তিনি মামলা করতে চাইলে বিসিবি প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেবে। কারণ, এ ধরনের ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকেই অভিযোগকারী হিসেবে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে মাহিন এম রহমান বলেন, মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে ‘হাই-হ্যান্ডেড রুড বিহেভিয়ার’ এবং ‘ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট টাচিং’- এই দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য, দুটি আচরণই যৌন হয়রানির আওতায় পড়ে।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।